কয়েক দিন আগে মারা গেছেন অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা। তার অপমৃত্যুর সঙ্গে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির নাম জড়িয়েছে। ইকরা-আলভীর সংসার ভাঙা ও ইকরার আত্মহত্যার জন্য তিথি দায়ী বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ইকরার পরিবার দাবি করেছে, আলভীর সঙ্গে সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির সম্পর্কের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাও করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে ইকরার সঙ্গে কথোপকথনের ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন তিথি। ফেসবুকে শেয়ার করা এসব স্ক্রিনশটের ক্যাপশনে বেশ কিছু অভিযোগের উত্তর দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
ইফফাত আরা তিথি বলেন, “না জেনে-বুঝে কথা না বলে, এতই যেহেতু সময় সবার তাহলে সবটা পড়েন। ইকরার সাথে আমার কিছু ক্যাজুয়াল কথা! এইতো কিছুদিন আগের। এইগুলা আপাতত দিলাম। কিছু বিষয় ক্লিয়ার করার জন্য। আরও আছে। আর ফেক বলার অপশন নাই, কারণ কনভার্সেশন তো এখনো আছে। একটা স্ক্রিন রেকর্ডে ভয়েসও আছে। পাবলিক যা-তা বললেও যারা ইকরার কণ্ঠ চেনে তারা তো বোঝারই কথা।”
এসব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চাননি তিথি। এর কারণ ব্যাখ্যার পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “ভেবেছিলাম এইগুলা পাবলিকলি দিব না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে সেখানে দিব সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে হ্যারেস করা হচ্ছে। আর চুপ থাকা গেল না। অলরেডি কিছু জায়গায় অডিও স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম আমি। আর যারা নিজেরা খুব সাধু সাজতেছেন, আপনারা কী, সেটার আমলনামাও আছে। শুধু আমার কাছে না। অনেকের কাছেই আছে। যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলেও যেন সেটা সামনে আসে।”
“আমার বিশ্বাস, অ্যাক্টর ইকুইটি (অভিনয়শিল্পী সংঘ), অথবা আরও সংগঠন যা আছে, তারা সেগুলো হাতে পেলে সুষ্ঠু বিচার করবে। আর যদি আমাকে মেরে ফেলে, হ্যারেজ করে। অনেক মানুষ আছে সেগুলো পাবলিকের সামনে আনার। চাই নাই আপনার সাথের মেয়েগুলোর ঝামেলা করতে! কি আর করার! নিরুপায় আমি। প্রয়োজন হলে সেই আমলনামাও আসবে সামনে।” বলেন তিথি।
ইকরা-আলভীর সংসার ভাঙার অভিযোগ উঠেছে তিথির বিরুদ্ধে। কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিথি। তিনি বলেন, “আমি ওকে (ইকরা) কাজ করার জন্য, নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করার জন্য, ওর গ্রুপ নিয়ে এক্টিভ থাকতে বরাবর উৎসাহ দিয়েছি। আমি ওর এত ক্লোজকেও ছিলাম না, ওর হাজব্যান্ডের বন্ধু এবং সহশিল্পী ছিলাম। মনে হয়েছিল, ও কাজে ব্যস্ত থাকলে মানসিকভাবে সুস্থতা অনুভব করবে। যতটুকু নিজের সীমা রক্ষা করে বলার, বোঝানোর বুঝিয়েছি। কারণ একটাই যে, কারো সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিল না।”
আলভীর স্ত্রী আমেরিকায় চলে যেতে চেয়েছিল। সেই ইচ্ছার কথাও তিথির সঙ্গে ভাগ করেছিল ইকরা। তা জেনে ইকরাকে তিথি বলেছিল, “বললেই হবে! চাইলেও যেতে পারবা না। কারণ তুমি তাকে ভালোবাস। তুমি রাণি, তুমি তার রাণি।”
এরপর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিথি বলেন, “তাহলে আত্মহত্যার জন্য উসকানি আমি কেমন করে দিব? আর যাই বলেন, এইটা বলতে পারেন না যে, ওকে নিজের জীবন নিয়ে নেওয়ার জন্য উস্কে দিয়েছি। সে তার নিজের জীবন নিজে নিয়েছে।”
আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে ইকরার সমালোচনা করে তিথি বলেন, “সন্তানটার কথা একটাবার মা হয়ে ভাবলে আজকে এই জীবনটা থাকত। মা হওয়ার পর এইটাই তো সবচেয়ে বড় পরিচয়। ওর জীবনের মায়া, সন্তানের মায়া থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ওর কষ্ট বা ভোগান্তিকে ছোট করছি না, কোনোদিন করবও না। কিন্তু ও যে মা এমন একটা ডিসিশনের আগে যদি একটু ভাবত!”
খুলনা গেজেট/এমএনএস

